অনলাইনে কুরবানির পশু বিক্রি বেড়েছে তিনগুণ

৩০ জুলাই, ২০২০ ০৫:৫১  
ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে যখন বেপারীদের হাহাকার চলছে তখন ডিজিটাল হাটে প্রতি দিনই বিক্রি বাড়ছে।মাত্র ৫০  হাজার টাকার নিচে মিলছে অর্গানিক তাগড়া কোরবানির পশুর। পাশাপাশি বাবু, মনার মতো নামী-দামী কোরবানির গরুও রয়েছে ডিজিটাল হাটে। তিন দিন ধরে হাটে বেচা কেনা কম হওয়ায় দাম আরো কমেছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনলাইনে এখন ভীড় বেড়েছে কোরবানি পশু ক্রেতাদের। এই প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত ডিজিটাল হাটের সবচেয়ে বড় গরুর ওজন ছিলো সাড়ে ২৮ মন ৩৭ কোজি। টঙ্গিতে লালিত-পালিত বাবু নামের এই কোরবানির পশুটির উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। দাম ৫ লাখ ৯৯ হাজার। কৃষেকের আসাদুজ্জমান পশুটির দাম হেঁকেছেন সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তবে সাধারণ পশুর হাট থেকে তুলনামূলক কমদামে এবার বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। ফলে ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অনলাইন সাইটে প্রতিদিন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বেড়েছে বায়না ও কেনাকাটার হারও। অনলাইনে পশু বিক্রি আগে শুরু হলেও ক্রেতাদের অনলাইন হাট থেকে পশু কেনার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে গত ২ দিন ধরে বিশেষ করে রাজধানীর গরুহাটগুলো চালু হওয়ার পর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলছেন, সাধারণ হাটের চেয়ে ই-কমার্স শপগুলোতে দাম কম হওয়ায় ই-কমার্স শপগুলোর বেচাকেনা তিনগুণ বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিজিটাল হাট থেকে কোরবানির পশু কিনলে হাসিল না লাগা, স্লটারিং সুবিধা এবং প্যাকেজিং সহ বাসায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি ঝামেলাহীন হওয়ায় হাটগুলোতে না গিয়ে অনলাইনেই পরিজনের পছন্দে গরু কেনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন ক্রেতারা। বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন এর সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, আমাদের বেশীরভাগ গরুই ডিজিটাল স্কেলে ওজন মাপা। যেসব গরু বাইরে থেকে আসবে তাদের গরুগুলো ঈদের আগের দিন ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সুতরাং এখানে কোনো প্রতারণার সুযোগ নেই। ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের জন্য একটা আস্থার জায়গা তৈরী করেছে।’ ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটের সাথে যুক্ত রয়েছে দারাজ, ইভ্যালী, আজকেরডিল, গরুহাট, কোরবানি হাট, দেশিগরু, সবজিবাজার, গ্রামীণফ্রেন্ডস, জারিফা বাণিজ্যালয়, আহনাফ এগ্রো, বিডিসেল, ই-সদাই, রেইনফরেস্ট, যাচাই, আনন্দমেলা, ঢাকা বস, ঢাকার দোকান, ফার্ম এগ্রো, ফ্যামিলি বাজার। এছাড়া রয়েছে পরানবাজার, ভিআইডি বাজার, হাংরি নাকি, একশপ, ফুড ফর নেশন, ফ্রেসবিঙ্গার, হাম্বাফার্ম, হাম্বাহাম্বা ডট কম, নন্দনা, বিশালহাট, উডল্যান্ড, জিনিসমার্ট, শপআপ, সওদাগর, সেরাবাংলা৬৪, সবকিছু, সাদিক এগ্রো, খাটি, প্রিয়শপ, পারমিদা, প্রগা এগ্রো, অনলাইন মুদি, কাজী টেকনোলোজি সহ ৫৫টি অনলাইন। ডিজিটাল হাট ও অন্যান্য অনলাইন হাট থেকে গরু কেনায় দামের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে খামারে গরু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজ এর হেড অব ইকুইজিশন সাইমুন সানজিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বেশকিছু মার্চেন্ট থেকে বাছাই করে আমরা শুধু ন্যায্যমূল্যে যারা গরু দিতে পারবে তাদের কাছ থেকে গরু নিচ্ছি। ফলে আমরা গরুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে পেরেছি।’ গ্রামীণফ্রেন্ডস এর সিইও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা লাইভ ওয়েটের উপর ২৯০ টাকা ৩৩০ টাকার মধ্যে আমাদের গরুগুলো রয়েছে। এরমধ্যে কোনো হাসিল নেই। এমনকি আমরা হোম ডেলিভারীর দায়িত্ব নিয়েছি। ডিজিটাল হাটের ইনভয়েসে গরুর ছবি দেয়া রয়েছে। ক্রেতারা গরু ডেলিভারী নেয়ার সময় অবশ্যই সব তথ্য মিলিয়ে নিতে পারবেন। অনলাইন হাট হলেও ক্রেতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সবকিছু ঠিক করা হয়েছে। ক্রেতারা একবার এখান থেকে গরু কিনলে বার বার কিনবেন।’ বিডিসেল এর নির্বাহী শহীদুজ্জামান বলেন, `আমরা অনলাইনে দেয়ার জন্য কিছু পশু ছবি তুলতে হাঁটে গিয়েছিলাম। রাজধানীর কয়েকটা হাঁট দেখে আমরা অনলাইনে আপলোড করার জন্য গরু পাইনি। কারণ সেগুলোর দাম অনলাইনের গরুর তুলনায় অনেক বেশী’। গরুহাট ডট কম এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে গরু কিনছি। ফলে একদিকে কৃষক উপকৃত হচ্ছে অন্যদিকে ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে সেরা গরু পাচ্ছে। উপরন্ত অনলাইনে হাসিল না থাকার কারণে ক্রেতারা আরো বেশী উৎসাহিত হচ্ছে। করোনার ব্যাপারতো আছেই। ’ এ প্রসঙ্গে দেশীগরুবিডি এর প্রধান নির্বাহী টিটু রহমান বলেন, ‘প্রথাগত হাটের সাথে পার্থক্য গড়তে হলে অবশ্যই দাম এবং মান দুটোকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। ডিজিটাল হাট যে দামসীমা নির্ধারণ করেছে আমরা তারচেয়ে কম দামে অনলাইনে গরু বিক্রি করছি। ফলে প্রতিদিন আমাদের বিক্রির হার বাড়ছে।’